“আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ কিন্তু ইশকুলে নিয়মিত করা না”

YouTube শিক্ষক হিসেবে কাজ করে মজার ইশকুল :: Mojar School এর জন্য ।
 
এখনো আমরা দুর্দান্ত সব নাচ শিক্ষার্থীদের শিখাতে পারিনি । কেন পারিনি সেই গল্প আগে বলি,
 
আমরা যাদের পড়াই বা পড়তে উৎসাহ দেই তারা কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু । বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের ইশকুল ভিজিট করার পর বেশীর ভাগ শুভাকাঙ্ক্ষী ভুলে যায় বা গুলিয়ে ফেলে যে, এই শিশুরা অন্য ১০ টা শিশুর মত না । প্রথমত, এই শিশুরা এতো অনাদরে বেড়ে উঠে যে , আমাদের সমাজের প্রায় কারো প্রতি এদের বিশ্বাস থাকে না বিভিন্ন কারন বসতই । “আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ কিন্তু ইশকুলে নিয়মিত করা না”, প্রথম চ্যালেঞ্জ তাকে বিশ্বাস করানো ভিতর থেকে যে আমরা তার পাশে বন্ধুর মত আছি । আস্থা তৈরি করা ।
 
এই আস্থা বলে কয়ে কেউ তৈরি করতে পারে না , সময় লাগে । কারো ক্ষেত্রে কম বা কারো ক্ষেত্রে বেশী । এরপর শুরু হয় ইশকুল মুখী করার কাজ, তারপর নিয়মিত হওয়ার, তারপর শিক্ষায় আগ্রহী করা এবং শেষে শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা । এই ধাপ গুলো সহজ নয় মোটেই ।
 
যা বলতে গিয়ে এত লেখার অবতারণা, নাচ, গান বা কবিতা আবৃত্তি গুলো ঠিক টিভিতে দেখা বা নাম করা কোন ইশকুলের শিক্ষার্থীদের মত হয় না । হাত তালিও সেভাবে পায় না ।
 
অথচ, আমি – আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখি । চোখে অবিশ্বাস নিয়ে দেখি, যে শিক্ষার্থী নাচ, গান বা কবিতা শুরু করে তারা নিজেরাই অবাক হয় । রাস্তায় কাগজ না টুকিয়ে , মাদকের স্পর্শে না থেকে আজকে তারা সবাই মধ্যমণি । ভাইয়া আপুরা ( স্যার , ম্যামরা ) অপেক্ষা করে আছে আমার পরিবেশনা দেখার , এটা ভেবে আনন্দিত হয় । আমরা মুগ্ধ হই অবাক হই, নিজেদের ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা দেখে নিজেদের চিমটি কাটি ।
 
করুণা নয়, ভালোবেসে পাশে থেকে একটা শিশুর আত্মবিশ্বাস আমরা সবাই মিলে বাড়িয়ে দিচ্ছি ।
 
কেউ কেউ ভুলে যায়, আমরা একদিনের জন্যও ভুলি না । ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার না , একটা শিশুও যেন আর পথে ফিরে না যায় , যেতে বাধ্য না হয় তা নিশ্চিত করতেই আমাদের পথ চলা ।
 
 
অনুরোধ, যখন আমাদের শিশুদের কোন পরিবেশনায় আপনি থাকেন । আমরা জানি এরা কেউ আপ-টু-মার্কস না কিন্তু ওদের চেষ্টায় কোন কমতি না । অপ্রতুল সহযোগিতা বা সুযোগকে এই শিশুরা বাঁধা মনে করে না বরং যা পায় তাতেই আকাশসম আনন্দ তারা উপভোগ করে । আমাদের শুধু ভালোবেসে পাশে থাকার দায়িত্ব ।
 
 
ইউটিউব কিভাবে নাচের শিক্ষক ? ওইখানের ভিডিও দেখে যেটা সব থেকে সহজ সেটাই শিখায় যায় আমাদের শিক্ষকরা , স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকরা !
 
ছবি – স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষার্থীদের জীবনে প্রথম দলীয় নৃত্য ।